সোমবার, ৪ঠা মে ২০২৬, ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩


তথ্যের মান ঠিক না থাকলে মানুষ গণমাধ্যম থেকে সরে যাবে : ড. সুসান ভাইজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৪ মে ২০২৬, ২০:০৫

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

তথ্যের মান ঠিক না থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে গণমাধ্যমের ওপর আস্থা হারিয়ে সরে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে তথ্যের সততা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, তা না হলে মানুষ বিকল্প হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে ঝুঁকবে।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীতে ইউনেস্কো ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ভয়েস’-এর যৌথ উদ্যোগে গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও জেন্ডার সমতা নিশ্চিতে ‘সমতা’ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. সুসান ভাইজ বলেন, গণমাধ্যম যদি নির্ভরযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করতে না পারে, তাহলে মানুষ গণমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে। তাই গণমাধ্যমকে অবশ্যই তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষকে তথ্য যাচাই, উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে কম শিক্ষিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভুল তথ্যের ঝুঁকিতে বেশি থাকে, তাই তাদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৪৫ সালে ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য ছিল ‘তথ্যের অবাধ প্রবাহ’ নিশ্চিত করা। প্রথমে এটি তথ্যপ্রাপ্তির ওপর জোর দিলেও পরবর্তীতে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিস্তৃত হয়েছে।

ইউনেস্কোর এই প্রতিনিধি জানান, ১৯৮০ সালে চালু হওয়া ইউনেস্কোর ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব কমিউনিকেশন’ (আইপিডিসি)- গণমাধ্যম উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল, যা মূলত তৃণমূল পর্যায়ের কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে সহায়তা দেয় এবং সীমিত অর্থ দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে সহায়তা করে থাকে।

ইউনেস্কো মূলত আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করে বলেও জানান তিনি।

১৯৯১ সালের উইন্ডহোক ঘোষণার কথা উল্লেখ করে ড. সুসান বলেন, ইউনেস্কো স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে। গণমাধ্যমকে অবশ্যই বহুমাত্রিক হতে হবে এবং সমাজের প্রতিফলন ঘটাতে হবে, যা নিশ্চিত করতে হলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কমিউনিটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়টি ২০০৮ সাল থেকে গুরুত্ব পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এটি একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তাহীনতা অনেক নারীকে পেশায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখে এবং অনেক ক্ষেত্রে পেশা ছাড়তেও বাধ্য করে।

ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি ও আক্রমণ বর্তমানে বড় চিন্তার বিষয়, এবং এটি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

তহবিল প্রদানের বিষয়ে তিনি জানান, আইপিডিসি বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার তহবিল বিতরণ করে, যা ২০টি দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। ফলে প্রতিটি দেশ প্রতি বছর এই তহবিল পায় না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শক্তিশালী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ইতিবাচক দিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে ইউনেস্কোর কার্যক্রম প্রসঙ্গে ড. সুসান ভাইজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি রেডিও উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে, যা প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বর্তমানে কমিউনিটি রেডিও খাতটি তেমন শক্তিশালী অবস্থায় নেই। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধকতা ও জেন্ডার ইস্যু, নির্বাচনকালীন গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং তথ্যের সততা (ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি) নিয়ে কাজ করছে ইউনেস্কো। নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি তথ্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হিরুজ্জামান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ। আলোচক হিসেবে অংশ নেন মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিশা ইসলাম, ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরি, বহ্নিশিখার পরিচালক সামিনা ইয়াসমিন এবং জেন্ডার ও মিডিয়া গবেষক আফরোজা সোমা।

এবং অনুষ্ঠানে ‘সমতা’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়