মঙ্গলবার, ২৮শে এপ্রিল ২০২৬, ১৫ই বৈশাখ ১৪৩৩


ক্রস-বর্ডার লেনদেনে অর্থ পাচার

চ্যাটজিটিপি ও গুগলসহ ডিজিটাল সেবায় বাংলাদেশের কর নীতির সংস্কার দাবি

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত:২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৫

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

চ্যাটজিটিপি, মেটা, গুগল ও ফেসবুকের মাধ্যমে ক্রস-বর্ডার লেনদেনে অর্থ পাচার রোধে ডিজিটাল সেবায় কর নীতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

আজ (মঙ্গলবার) এনবিআরে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ মাসুদ আলম এমন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনের ট্যাক্স আদায় করা উচিত। ডিজিটাল ট্যাক্সের ভিত্তিটাকে আরও বাড়ানো যায়। ফেসবুক, মেটা, গুগল এদের প্রচুর প্রোডাক্ট এখন বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিয়ত কিনছে। আমি ছোট্ট একটি উদাহরণ দিচ্ছি, চ্যাটজিপিটির ‘গো’ সিস্টেম যেটা অনলি ৫.৭৫ ডলার। ০.৭৫ ডলার আমি কিন্তু ট্যাক্স দিচ্ছি অন্য দেশকে, আমার দেশকে না। অথচ সার্ভিস কিনছি বাংলাদেশে বসে।

আপনি এক্সপ্লোর করেন বাংলাদেশে কী পরিমাণ চ্যাটজিপিটির এই প্রিমিয়াম সার্ভিসটুকু নিচ্ছে। হয়তোবা মিডিয়াম রেঞ্জের ক্রেতারা ২০ ডলারের সার্ভিস নিচ্ছে। গুগলকে বলতে হবে ট্যাক্স দাও। শুরু করেন, একদম ক্ষুদ্র আকারে সেটুকু শুরু করা যেতে পারে এই ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে। আর ফেসবুকের ক্ষেত্রে যত ধরনের লেনদেন হচ্ছে বিশেষ করে স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলো, অন্যান্য ডিজিটাল সেবাগুলোর ক্ষেত্রে ওই অর্থে বর্তমানে কোনো কর নেই।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় কর প্রশাসন আধুনিকায়ন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় এবং বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়।

অর্থনীতি সমিতি বলছে, বাংলাদেশে ভাড়া বাসা থেকে আয় একটি বড় কিন্তু প্রায় অদৃশ্য কর-ভিত্তি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাড়ার আয় নগদে পরিশোধ করা হয় বলে আনুষ্ঠানিকভাবে করযোগ্য আয়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শন করা হয় না এবং কর প্রদান করা হয় না। এই ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাবনা অনুসারে, একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে—সব ভাড়া চুক্তি ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা, ভাড়াটিয়া পরিবর্তনের সাথে বিদ্যুৎ/গ্যাস এনআইডির সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট থ্রেসহোল্ডের ওপর ভাড়ার ক্ষেত্রে উইথহেল্ড ট্যাক্স পদ্ধতি কার্যকর করা।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ভাড়া বাসা থেকে কর আদায়ের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক অর্থনীতির। কারণ নগরীর অভিজাত ও উচ্চমূল্যের আবাসনের বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। ফলে শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনা দিয়ে এই খাতকে করের আওতায় আনা সম্ভব হবে না; বরং একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারনির্ভর রাজস্ব সংস্কার উদ্যোগ প্রয়োজন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়