রবিবার, ১৯শে এপ্রিল ২০২৬, ৬ই বৈশাখ ১৪৩৩


দেড় ঘন্টা অপেক্ষায় রেখেও সাক্ষাৎ করতে দেননি

গণপূর্তের ষ্টাফ অফিসার কর্তৃক হেনন্তার শিকার সাংবাদিক

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৬

ছবি: সময় নিউজ

ছবি: সময় নিউজ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ষ্টাফ অফিসার কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। টানা দেড় ঘন্টা অপেক্ষায় রেখেও সাক্ষাৎ দূরের কথা, উল্টো ওই সাংবাদিককে নাকানিচুবানি খাওয়ানোর পাশাপাশি একপর্যায়ে দেখে নেবারও হুমকি দেয়া হয়েছে। ষ্টাফ অফিসারের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিষয়টি ঘটনার দিন তাৎক্ষণিক চিফ ইঞ্জিনিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হলেও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

জানা গেছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১টায় নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিডব্লিউডির চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কার্যালয়ে গেলে দৈনিক সময় এর সাংবাদিক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জেহাদ চৌধুরীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন প্রধান প্রকৌশলীর ষ্টাফ অফিসার ফারিবা হালিম অরিণ। শুধু তাই নয়- প্রায় দেড় ঘন্টা অপেক্ষায় রেখেও চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি তাঁকে।

হেনস্তার শিকার ওই সাংবাদিক জানান, “নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিষয়ে জানতে ১৫ এপ্রিল বুধবার দুপুর ঠিক ১টায় পিডব্লিউডি ভবনে যাই। এরপর ষ্টাফ অফিসারের দরজায় উঁকি মেরে রুমের ভেতরে কাউকে না দেখে পাশের রুমের একজনের কাছে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি আমাকে রুমের ভেতরে অপেক্ষা করতে বলেন। তখন ষ্টাফ অফিসারের কক্ষে আমিসহ আরও চারজন দর্শনার্থী ছিলেন। প্রায় ১৫/২০ মিনিট অপেক্ষার পর মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ষ্টাফ অফিসার ফারিবা হালিম অরিণ রুমে প্রবেশ করে তাঁর আসনে বসেন। এরপর আরও প্রায় ৫/৭ মিনিট মোবাইলের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তিনি উত্তেজিত মেজাজে কথা অব্যাহত রাখেন- ‘তুমি বেশি পন্ডিত হয়ে গেছো। আমার চাইতে বেশি বুঝ, যাও ফেরত দিয়ে আসো, ব্লা ব্লা ব্লা....। কথার একপর্যায়ে ধপাস শব্দে টেবিলের উপর তিনি তাঁর মোবাইল ফোনটি আছড়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে রুমে আরও দু’জন দর্শনার্থী/ঠিকাদার প্রবেশ করেন। ষ্টাফ অফিসার একে একে সবার পরিচয় এবং আগমনের কারণ জানতে চাইলে ভিজিটর স্লিপে আমার নাম পরিচয়সহ সাক্ষাতের উদ্দেশ্য লিখে তাঁর সামনে দেই। এরইমধ্যে অরিণের মুঠোফোনে আবারও কল আসলে তিনি রিসিভ করে কথা বলতে থাকেন। প্রায় মিনিট দশেক পর কেউ একজন রুমে উঁকি মেরে অরিণকে লক্ষ্য করে ‘সবাই রেডি, চলেন ম্যাডাম’- বলতেই নিজ আসন ছেড়ে মোবাইলে কথা বলা অবস্থায় রুমে উপস্থিত কাউকে কিছু না বলে আগন্তুকের সঙ্গে চলে যান অরিণ। এরপর টানা একঘন্টা পরে তিনি রমে প্রবেশ করে নিজ আসনে বসেন। এই পুরো দেড় ঘন্টার সিসি টিভি ফুটেজ রেকর্ড আছে।”

জেহাদ চৌধুরী বলেন, টানা দেড় ঘন্টা অপেক্ষার পর ষ্টাফ অফিসারের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই- ম্যাডাম স্লিপটা কি আপনার স্যারকে দিয়েছিলেন? উত্তরে তিনি হ্যাঁ সূচক জবান দেন। ২য়বার প্রশ্ন করি- কখন দিয়েছেন, চিফ সাহেব কিছু বলেছেন? উত্তরে অরিণ বলেন, ‘আমি যথাসময়ে আমার কাজ করেছি। স্যার রুমে নাই।’ তাহলে কি কারণে আমাকে দেড় ঘন্টা বসিয়ে রাখলেন- জেহাদ চৌধুরীর এমন প্রশ্নে ফারিবা হালিম অরিণ এবার রুদ্রমূর্তী ধারণ করে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন- ‘আপনাকে আমার জবাব দিতে হবে? আপনি কে? একজন সরকারি অফিসারকে আপনি এভাবে চার্জ করতে পারেন না। আমি আপনার চাকরি করি না, ইত্যাদি...’ তখন রুমে উপস্থিত অপর দর্শণার্থীরা ষ্টাফ অফিসারের আচরণের মৃদু প্রতিবাদ করেন। উপস্থিত কেউ একজন বলেন, ‘ম্যাডাম আপনি আমাদের সবার স্লিপ নিয়ে গেলেন কিন্তু কাউকে কিছু না বলেই দেড় ঘন্টা বসিয়ে রাখলেন! কাজটা আদৌ ঠিক করেন নাই।’ এ কথায় অরিণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর হাতে থাকা একটি ফাইল টেবিলে ছুড়ে দেন। কলিংবেল টিপে চেয়ার ছেড়ে রুম থেকে বেরিয়ে যান। এসময় জেহাদ চৌধুরীও অরিণের পিছু নিয়ে রুমের বাহিরে যান এবং দেয়ালে টানানো নেমপ্লেটের ছবি তুলতে গেলে চিৎকার করে অরিণ বলেন, ‘দেখোতো এই লোকটা কে, তার ছবি তুলে রাখো, ভিডিও করো।’ অরিণের এহেন আচরণে উপস্থিত লোকজন ঘটনাটি অনভিপ্রেত উল্লেখ করে জেহাদ চৌধুরীকে চুপ থাকতে বলেন। কিছুসময় পর চিফ ইঞ্জিনিয়ায়ারের হোয়াটসঅ্যাপে নক দিয়ে তাঁর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি মন্ত্রণালয়ে জরুরী মিটিংয়ে আছেন বলে জানান। দুপুর ২টা ৪৫মিনিটে ভবন ত্যাগ করেন জেহাদ চৌধুরী।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর ষ্টাফ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন ফারিবা হালিম অরিণ (নির্বাহী প্রকৌশলী সিভিল, চলতি দায়িত্ব)। ওই সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টাকে খুশি করে পদটি বাগিয়ে নেন তিনি। এর আগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-১, ঢাকা-তে কর্মরত ছিলেন। ষ্টাফ অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই পুরো ভবনে দাপট দেখিয়ে চলেছেন অরিণ। অত্যন্ত বদমেজাজি স্বভাবের কারণে যখন তখন যার তার সাথে খারাপ আচরণ করেন। প্রায়ই মোবাইল ফোনে লোকজনের সঙ্গে ধমকের সুরে, উচ্চশব্দে কথা বলেন তিনি। রেগে গেলে রুদ্রমূর্তী ধারন করেন সরকারের এই কর্মচারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত ভবনের একাধিক ব্যক্তি জানান, ‘চিফ ইঞ্জিনিয়ারের ‘খুবই ঘনিষ্ঠ’ ফারিবা হালিম অরিণ। ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। এর মাত্র দুইদিনের মাথায় অরিণকে ষ্টাফ অফিসার করে নিজের কাছে নিয়ে আসেন খালেকুজ্জামান। যে কারণে ঠিকাদার থেকে শুরু করে ভবনে সিনিয়র-জুনিয়র কাউকেই পাত্তা দেন না অরিণ। সবসময় হাই ভোল্টেজে থাকেন প্রজাতন্ত্রের এই কর্মচারী।’

ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক বলেন, “ষ্টাফ অফিসারের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে আমি হতবাক। বিষয়টি অবহিত করে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার খালেকুজ্জামান চৌধুরীর হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ম্যাসেজ এবং পরবর্তিতে কল দিলেও তিনি অদ্যাবধি কোন সাড়া দেন নাই।”

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়